জাতীয় সংসদ নির্বাচন আসন্ন, অথচ নির্বাচন কমিশন (ইসি)-র বারবার সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের ফলে সৃষ্টি হচ্ছে নতুন নতুন আইনি জটিলতা। সীমানা নির্ধারণ থেকে শুরু করে প্রার্থীর যোগ্যতা যাচাই—নানা স্পর্শকাতর বিষয়ে ইসির অস্থির সিদ্ধান্তের প্রভাব এবার সরাসরি পড়ল নির্বাচনের ওপর। সীমানা সংক্রান্ত আইনি জটিলতার কারণে পাবনা-১ এবং পাবনা-২ আসনের নির্বাচন ‘আপাতত’ স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন।
বারবার সিদ্ধান্ত বদল ও আইনি প্যাঁচ
নির্বাচন কমিশন তাদের নিজেদের নেওয়া সিদ্ধান্তেই অটল থাকতে পারছে না। কখনো রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা হচ্ছে, আবার কখনো উচ্চ আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে তা আবার প্রত্যাহার করে নেওয়া হচ্ছে।
পাবনার এই দুটি আসনের ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটেছে: ১. সীমানা নিয়ে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে ইসি প্রথমে আপিল করে। ২. পরবর্তীতে হঠাৎ সেই আপিল প্রত্যাহার করে নেয়। ৩. এরপর হাইকোর্টের রায়ের আলোকে গত ২৪ ডিসেম্বর সীমানা পুনর্নির্ধারণ করে গেজেট প্রকাশ করে।
এই গেজেট অনুযায়ী, বেড়া উপজেলার একটি পৌরসভা ও চারটি ইউনিয়নকে সাঁথিয়া উপজেলার সাথে যুক্ত করে পাবনা-১ এবং ওই অংশগুলো বাদ দিয়ে সুজানগর উপজেলার সাথে পাবনা-২ আসন গঠন করা হয়। কিন্তু গত ৫ জানুয়ারি আপিল বিভাগ ইসির এই সংশোধিত গেজেটের অংশবিশেষ স্থগিত করে দেয়।
কেন এই জটিলতা?
ইসির কর্মকর্তাদের মতে, এই জটিলতার মূল কারণ কমিশনের দ্বিমুখী নীতি। বাগেরহাট ও গাজীপুরের সীমানা সংক্রান্ত মামলায় ইসি আপিল নিষ্পত্তির জন্য অপেক্ষা করার সিদ্ধান্ত নিলেও, পাবনার ক্ষেত্রে তারা তাড়াহুড়ো করে হাইকোর্টের রায় মেনে সীমানা পরিবর্তন করে ফেলে। আপিল নিষ্পত্তি পর্যন্ত অপেক্ষা না করার ফলেই আজ এই অচলাবস্থা।
নির্বাচন কি পুরোপুরি বাতিল?
নির্বাচন কমিশনের এই হঠকারী সিদ্ধান্তের ফলে শেষ মুহূর্তে এসে বিপাকে পড়েছেন এই দুই আসনের ভোটার ও প্রার্থীরা। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ যুগান্তরকে জানান, “ওই দুই আসনের নির্বাচন পুরোপুরি স্থগিত করা হয়েছে তা বলা যাবে না। আমরা ‘আপাতত’ স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সুপ্রিম কোর্টের পরবর্তী আদেশ না আসা পর্যন্ত এ দুটি আসনের নির্বাচন স্থগিত থাকবে।”
শেষ কথা
জাতীয় নির্বাচনের মতো বিশাল কর্মযজ্ঞে ইসির এমন নড়বড়ে অবস্থান এবং বারবার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে। পাবনা-১ ও ২ আসনের আইনি জট কবে খুলবে এবং কবে নাগাদ সেখানে ভোটগ্রহণ সম্ভব হবে, তা এখন আদালতের পরবর্তী নির্দেশের ওপর নির্ভর করছে।
নির্বাচন কমিশনের এমন কর্মকাণ্ড সম্পর্কে আপনার মতামত কী? কমেন্টে জানান!


