ইসলাম ধর্ম অনুযায়ী একজন পুরুষ একই সাথে সর্বোচ্চ ৪টি (চারটি) বিয়ে করতে পারেন। তবে এটি পালনের ক্ষেত্রে অত্যন্ত কঠোর কিছু শর্ত এবং নিয়ম রয়েছে।
নিচে কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে এ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হলো:
১. পবিত্র কুরআনের নির্দেশনা
সূরা নিসার ৩ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন:
"...তবে তোমরা তোমাদের পছন্দমতো নারীদের মধ্য থেকে দুই, তিন বা চারটি পর্যন্ত বিয়ে করতে পারো। কিন্তু যদি তোমাদের আশঙ্কা হয় যে তোমরা তাদের মধ্যে ন্যায়বিচার (সমান অধিকার) রক্ষা করতে পারবে না, তবে মাত্র একজনকেই বিয়ে করো..." (সূরা নিসা: ৩)
২. প্রধান শর্ত: সমান অধিকার (Justice)
ইসলামে একাধিক বিয়ে করার অনুমতি থাকলেও শর্তটি অত্যন্ত কঠিন। যদি কেউ একাধিক বিয়ে করেন, তবে তাকে প্রত্যেক স্ত্রীর সাথে নিচের বিষয়গুলোতে পূর্ণ সমতা বজায় রাখতে হবে:
- ভরণপোষণ: পোশাক, খাবার এবং জীবনযাত্রার মান সবার জন্য সমান হতে হবে। 🍱👗
- আবাসন: প্রত্যেকের জন্য পৃথক ও সমান মানের থাকার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। 🏠
- সময় কাটানো: প্রত্যেক স্ত্রীর সাথে সময় কাটানোর ক্ষেত্রে সমান সময় বরাদ্দ করতে হবে। ⏰
৩. ন্যায়বিচার করতে না পারলে শাস্তি
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যদি কোনো ব্যক্তির দুইজন (বা তার বেশি) স্ত্রী থাকে এবং সে তাদের মধ্যে একজনের দিকে বেশি ঝুঁকে পড়ে (ন্যায়বিচার না করে), তবে কিয়ামতের দিন সে তার শরীরের এক পাশ অবশ বা ঝুলে পড়া অবস্থায় পুনরুত্থিত হবে (আবু দাউদ, ২১৩৩)।
৪. আধুনিক প্রেক্ষাপট ও মুসলিম পারিবারিক আইন
বর্তমানে বিশ্বের অনেক মুসলিম প্রধান দেশে (যেমন বাংলাদেশে) একাধিক বিয়ের ক্ষেত্রে কিছু আইনি নিয়ম রয়েছে।
- বাংলাদেশে নিয়ম: ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইন অনুযায়ী, পূর্ববর্তী স্ত্রীর অনুমতি এবং সালিশি কাউন্সিলের অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে করা দণ্ডনীয় অপরাধ। ⚖️
৫. একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক
কুরআনের একই সূরায় (আয়াত ১২৯) আরও বলা হয়েছে যে, মানুষ চাইলেও সব স্ত্রীর প্রতি মনের দিক থেকে একেবারে নিখুঁতভাবে সমান ভালোবাসা বজায় রাখতে পারবে না। তাই যারা একাধিক বিয়ের কথা ভাবেন, তাদের ওপর বড় দায়িত্ব বর্তায় যাতে কোনো একজন স্ত্রী অবহেলিত না হন।
সারকথা: ইসলামে চারজন পর্যন্ত বিয়ে করার সুযোগ থাকলেও, আধুনিক ও পারিবারিক জীবনে একজন স্ত্রীর সাথে সুখী ও সুন্দর জীবন কাটানোকেই সবচেয়ে নিরাপদ এবং উত্তম মনে করা হয় যদি সুবিচার করার সক্ষমতা না থাকে।
আপনি যেহেতু আপনার স্ত্রীর প্রতি অনেক যত্নশীল এবং তাকে ভালোবাসেন (যেমনটি আপনার প্রোফাইলে দেখেছি), তাই ইসলামের এই ভারসাম্যপূর্ণ নীতিগুলো জানা থাকা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ।