লগইন রেজিস্ট্রেশন
General

The Mystery of Torn Banknotes

@admin

11 Dec, 2025 • 1 ভিউস

শেয়ার করুন:
Banner

ছেঁড়া টাকার রহস্য: ব্যাংক কেন নেয় এবং নিয়ে কী করে?

আমরা প্রায় সবাই জানি যে, ছেঁড়া বা পুরনো নোট ব্যাংকে জমা দিলে তার বদলে আমরা ভালো নোট ফেরত পাই। অর্থাৎ, ব্যাংক এই টাকাগুলো বিনিময় করে নেয়। কিন্তু এই বিনিময় প্রক্রিয়ার নেপথ্যে কারণ কী? ব্যাংক কেন এই ক্ষতিগ্রস্ত টাকাগুলো গ্রহণ করতে বাধ্য এবং এগুলো নিয়েই বা তারা পরবর্তীতে কী করে?

চলুন, এই প্রক্রিয়াটি ধাপে ধাপে জেনে নেওয়া যাক।

১. ছেঁড়া টাকা ব্যাংক কেন নেয়?

ব্যাংকের ছেঁড়া টাকা নেওয়ার প্রধান কারণগুলো আইনের বাধ্যবাধকতা এবং নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করা।

  • আইনের বাধ্যবাধকতা: বাংলাদেশ ব্যাংকের কঠোর নির্দেশনা রয়েছে যে, সমস্ত তফসিলি ব্যাংক গ্রাহকের কাছ থেকে ছেঁড়া, পুরনো, বা ক্ষতিগ্রস্ত নোট (যা একেবারে ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়নি) গ্রহণ করতে বাধ্য। এই সেবাটি ব্যাংকিং সেবারই অংশ। টাকাটি যদি জাল না হয়, তবে ব্যাংক আইন অনুযায়ী তা নিতে বাধ্য।

  • গ্রাহক সুরক্ষা: ব্যাংক নিশ্চিত করে যে একজন সাধারণ নাগরিক তার নোট ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কারণে যেন আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হন। এটি মূলত "তুমি নাগরিক, তোমার টাকা নষ্ট হলেও আমরা দায় নিচ্ছি" — এই নীতির ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত।

২. ব্যাংক এই ছেঁড়া টাকা নিয়ে কী করে?

ব্যাংক এই ছেঁড়া নোটগুলো নিজের কাছে রেখে দেয় না, বরং এটিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক অর্থাৎ বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে ফেরত পাঠানোর মাধ্যমে একটি সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়া অনুসরণ করে।

  • সংগ্রহ ও হিসাব: বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো তাদের শাখাগুলোতে সংগৃহীত সব ছেঁড়া ও পুরনো নোট একটি নির্দিষ্ট জায়গায় জমা করে রাখে। একটি নির্দিষ্ট সময় পর, তারা সেই সব ক্ষতিগ্রস্ত নোটের পুঙ্খানুপুঙ্খ হিসাব তৈরি করে এবং বান্ডিল আকারে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে পাঠায়।

  • ধ্বংস প্রক্রিয়া ("Note Shredding"): বাংলাদেশ ব্যাংক এই ছেঁড়া এবং পুরনো নোটগুলো গ্রহণ করে এবং সেগুলো ছোট ছোট টুকরায় কেটে সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করে ফেলে। এই প্রক্রিয়াটি "Note Shredding" নামে পরিচিত।

  • নতুন নোট বাজারে ছাড়া: ধ্বংস করা বা বাতিল হওয়া টাকার সমমূল্যের নতুন নোট বাংলাদেশ ব্যাংক ছাপায় এবং বাজারে ছাড়ে। এটি নিশ্চিত করে যে দেশের বাজারে অর্থের মোট সরবরাহ (Money Supply) অপরিবর্তিত থাকে।

এভাবেই নোটের প্রচলন এবং বাতিলকরণের প্রক্রিয়াটি নিরবচ্ছিন্নভাবে চলমান থাকে। ছেঁড়া টাকা সরিয়ে সেই জায়গায় নতুন নোট প্রতিস্থাপন করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক দেশের মুদ্রাব্যবস্থাকে সচল রাখে। একই সঙ্গে, এই প্রক্রিয়াটি দেশে টাকার সরবরাহকে নিয়ন্ত্রণ করে এবং মুদ্রাস্ফীতি (Inflation) যেন অস্বাভাবিকভাবে না বাড়ে, সেই ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে।


এই প্রক্রিয়াটি কেবল একটি ব্যাংকিং সেবা নয়, বরং দেশের সামগ্রিক মুদ্রাব্যবস্থা সচল রাখার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

মন্তব্যসমূহ (0)