লগইন রেজিস্ট্রেশন
General

Textbroker বাংলা রিভিউ: আর্টিকেল লিখে আয় করার পূর্ণাঙ্গ গাইডলাইন

@admin

16 Dec, 2025 • 1 ভিউস

শেয়ার করুন:
Banner

কনটেন্ট রাইটিং বা লেখালেখি করে অনলাইনে আয় করার কথা ভাবছেন? ফ্রিল্যান্স রাইটিং জগতে ‘Textbroker’ একটি অত্যন্ত পরিচিত নাম। যারা নতুন হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করতে চান, তাদের জন্য এটি একটি দারুণ প্ল্যাটফর্ম হতে পারে। কিন্তু এই সাইটটি আসলে কীভাবে কাজ করে? এখান থেকে কি আসলেই ভালো আয় করা সম্ভব? বাংলাদেশ থেকে কি এখানে কাজ করা যায়?

আজকের ব্লগে আমরা Textbroker ওয়েবসাইট নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব। এর সুবিধা, অসুবিধা, পেমেন্ট পদ্ধতি এবং কাজের ধরন—সবকিছুই থাকছে এই রিভিউতে।

কনটেন্ট রাইটিং করে আয়: Textbroker ওয়েবসাইটের বিস্তারিত রিভিউ ও গাইডলাইন

ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসগুলোতে (যেমন Upwork বা Fiverr) কাজ পেতে হলে বিড করতে হয় বা গিগ খুলে অপেক্ষা করতে হয়। কিন্তু Textbroker এর কাজ করার পদ্ধতি সম্পূর্ণ আলাদা। এখানে ক্লায়েন্ট এবং রাইটারদের মধ্যে একটি মাধ্যম হিসেবে কাজ করে এই ওয়েবসাইটটি। আপনি যদি ইংরেজিতে দক্ষ হন এবং দ্রুত লিখতে পারেন, তবে এই সাইটটি আপনার আয়ের উৎস হতে পারে।

Textbroker আসলে কী?

Textbroker হলো একটি ‘Content Mill’ বা কনটেন্ট মার্কেটপ্লেস। ২০০৫ সালে প্রতিষ্ঠিত এই কোম্পানিটি বিশ্বজুড়ে ক্লায়েন্টদের জন্য আর্টিকেল, ব্লগ পোস্ট, প্রোডাক্ট ডেসক্রিপশন এবং প্রেস রিলিজ লেখার সার্ভিস দেয়। এখানে হাজার হাজার ক্লায়েন্ট তাদের অর্ডারের রিকুয়েরমেন্ট জমা দেন এবং রেজিস্টার্ড রাইটাররা সেই কাজগুলো সম্পন্ন করে আয় করেন।

কীভাবে কাজ শুরু করবেন? (Joining Process)

Textbroker-এ কাজ শুরু করার প্রক্রিয়াটি ধাপে ধাপে নিচে দেওয়া হলো:

১. রেজিস্ট্রেশন: প্রথমে আপনাকে ‘Author’ হিসেবে সাইন আপ করতে হবে।

২. স্যাম্পল সাবমিশন: রেজিস্ট্রেশনের পর আপনাকে একটি ছোট আর্টিকেল (Writing Sample) লিখে জমা দিতে হবে। এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।

৩. রেটিং সিস্টেম: আপনার জমা দেওয়া স্যাম্পলটি তাদের এডিটররা যাচাই করবেন এবং আপনাকে ২ থেকে ৫ স্টারের মধ্যে একটি রেটিং দেবেন।

৪. কাজ শুরু: আপনার রেটিং অনুযায়ী আপনি ড্যাশবোর্ডে কাজ (Open Orders) দেখতে পাবেন এবং লেখা শুরু করতে পারবেন।

> সতর্কতা: Textbroker বর্তমানে লোকেশন বা দেশের ব্যাপারে বেশ কড়াকড়ি আরোপ করে। সাধারণত যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া এবং নিউজিল্যান্ডের নাগরিকদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। বাংলাদেশ থেকে রেজিস্ট্রেশন করার সময় অনেক ক্ষেত্রে আইপি (IP) জনিত সমস্যা বা আইডি ভেরিফিকেশনে জটিলতা হতে পারে।

আয়ের পরিমাণ ও কাজের ধরন

Textbroker-এ আয়ের বিষয়টি পুরোপুরি নির্ভর করে আপনার ‘স্টার রেটিং’ এর ওপর। এখানে মূলত তিন ধরনের অর্ডার থাকে:

১. OpenOrders (ওপেন অর্ডার)

এটি সবার জন্য উন্মুক্ত (আপনার রেটিং অনুযায়ী)। আপনি ড্যাশবোর্ড থেকে আপনার পছন্দের টপিক বেছে নিয়ে লেখা শুরু করতে পারেন। কোনো বিড করার প্রয়োজন নেই।

 * ২ স্টার: প্রতি শব্দে খুব কম পেমেন্ট (প্রায় ০.৭ সেন্ট)।

 * ৩ স্টার: মোটামুটি পেমেন্ট (১.০ সেন্ট/শব্দ)।

 * ৪ স্টার: ভালো মানের রাইটার (১.৪ সেন্ট/শব্দ)।

 * ৫ স্টার: প্রফেশনাল লেভেল (৫.০ সেন্ট/শব্দ)।

২. DirectOrders (ডাইরেক্ট অর্ডার)

ক্লায়েন্ট যদি আপনার লেখা পছন্দ করে, তবে তারা আপনাকে সরাসরি কাজ দিতে পারে। এখানে আপনি আপনার রেট নিজেই ঠিক করতে পারেন। সাধারণত ২ থেকে ৫ সেন্ট বা তার বেশি রেট সেট করা যায়।

৩. TeamOrders (টিম অর্ডার)

কোনো বড় প্রজেক্টের জন্য ক্লায়েন্ট একটি টিম গঠন করে। আপনি সেই টিমে জয়েন করলে ফিক্সড রেটে কাজ করতে পারবেন।

পেমেন্ট মেথড

Textbroker পেমেন্টের ব্যাপারে খুবই বিশ্বস্ত।

 * পেমেন্ট গেটওয়ে: তারা মূলত Payoneer এবং PayPal-এর মাধ্যমে পেমেন্ট দেয়।

 * মিনিমাম পে-আউট: আপনার অ্যাকাউন্টে ন্যূনতম ১০ ডলার জমা হলেই আপনি টাকা তুলতে পারবেন।

 * পেমেন্ট সময়: সাধারণত সপ্তাহে একবার বা অনুরোধ করার কয়েক দিনের মধ্যেই পেমেন্ট ক্লিয়ার করে দেওয়া হয়।

Textbroker-এর সুবিধা (Pros)

✅ কাজ খোঁজার ঝামেলা নেই: অন্য মার্কেটপ্লেসের মতো বিড করতে হয় না। লগইন করুন, কাজ বাছুন এবং লেখা শুরু করুন।

✅ নতুনদের জন্য ভালো: যারা পোর্টফোলিও তৈরি করতে চান এবং লেখার হাত পাকা করতে চান, তাদের জন্য এটি দারুণ প্র্যাকটিস গ্রাউন্ড।

✅ পেমেন্ট গ্যারান্টি: কাজ অ্যাপ্রুভ হওয়ার সাথে সাথে টাকা জমা হয়। পেমেন্ট নিয়ে কোনো ধোঁকাবাজি নেই।

✅ ফ্লেক্সিবিলিটি: আপনি যখন খুশি, যত খুশি কাজ করতে পারেন। কোনো ডেডলাইন প্রেসার নেই (যতক্ষণ না আপনি কোনো অর্ডার গ্রহণ করছেন)।

Textbroker-এর অসুবিধা (Cons)

❌ কম পেমেন্ট: বিশেষ করে ২ বা ৩ স্টার রাইটারদের জন্য পেমেন্ট রেট খুবই কম, যা পরিশ্রমের তুলনায় নগণ্য।

❌ রেটিং কমার ভয়: এডিটররা খুব কড়া। সামান্য গ্রামাটিক্যাল ভুল বা নির্দেশনার বাইরে গেলে আপনার রেটিং কমিয়ে দেওয়া হতে পারে, যা আয় কমিয়ে দেয়।

❌ ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতা: বাংলাদেশ বা এশিয়ার দেশগুলো থেকে অনেক সময় অ্যাকাউন্ট অ্যাপ্রুভ হতে চায় না। তারা ‘নেটিভ ইংলিশ স্পিকার’দের বেশি প্রাধান্য দেয়।

❌ আইডি ভেরিফিকেশন: পেমেন্ট তোলার সময় বা অ্যাকাউন্ট খোলার সময় তারা ফটো আইডি এবং ট্যাক্স ইনফরমেশন চাইতে পারে।

বাংলাদেশ থেকে কি কাজ করা সম্ভব?

সত্যি বলতে, বর্তমানে Textbroker বাংলাদেশ থেকে নতুন রাইটারদের অ্যাকাউন্ট অ্যাপ্রুভ করার ক্ষেত্রে বেশ রক্ষণশীল। তারা সাধারণত https://www.google.com/search?q=Textbroker.com (যুক্তরাষ্ট্র) এবং Textbroker.co.uk (যুক্তরাজ্য) ভিত্তিক রাইটার খোঁজে।

তবে, আপনার ইংরেজি যদি নেটিভ লেভেলের হয় এবং আপনি পেওনিয়ারের মাধ্যমে পেমেন্ট নিতে পারেন, তবে চেষ্টা করে দেখতে পারেন। অথবা ভিপিএন ব্যবহার না করে লিগ্যাল ওয়েতে তাদের সাপোর্টে মেইল করে আপনার দক্ষতার প্রমাণ দিতে পারলে অনেক সময় তারা সুযোগ দেয়। তবে এটি নিশ্চিত নয়।

আমাদের মতামত (Verdict)

Textbroker কোনো ‘গেট রিচ কুইক’ বা দ্রুত ধনী হওয়ার স্কিম নয়। এটি একটি পরিশ্রমী প্ল্যাটফর্ম।

 * আপনি যদি বিগিনার হন এবং লেখার চর্চা করতে চান, তবে এটি ভালো।

 * আপনি যদি প্রফেশনাল হন এবং উচ্চ আয়ের আশা করেন, তবে আপওয়ার্ক বা লিঙ্কডইন-এ ক্লায়েন্ট খোঁজা আপনার জন্য বেশি লাভজনক হবে।

রেটিং:

? বিশ্বস্ততা: ৫/৫

? আয়ের সুযোগ: ৩/৫

সহজ ব্যবহার:** ৪/৫

উপসংহার:

ফ্রিল্যান্স রাইটিং ক্যারিয়ারে Textbroker একটি সিঁড়ির মতো। এখান থেকে শুরু করে অভিজ্ঞতা অর্জন করে পরবর্তীতে বড় ক্লায়েন্টদের সাথে কাজ করা সহজ হয়। আপনার যদি লেখার প্রতি ভালোবাসা থাকে এবং ইংরেজিতে ভালো দক্ষতা থাকে, তবে একবার সাইটটি ঘুরে দেখতে পারেন।

এই ব্লগটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন এবং আপনার কোনো প্রশ্ন থাকলে কমেন্ট বক্সে জানান!


মন্তব্যসমূহ (0)