বর্তমান সময়ে সিনেমার রিমেক বা অ্যাডাপ্টেশনগুলো প্রায়ই সমালোচনার মুখে পড়ে। কখনো দুর্বল কাস্টিং, আবার কখনো মূল গল্পের আবেগ থেকে সরে আসার কারণে দর্শকদের প্রত্যাশা পূরণ হয় না। কিন্তু একবার ভাবুন তো, যদি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI ব্যবহার করে আমরা সময়ের চাকা ঘুরিয়ে দিতে পারতাম?
কল্পনা করুন, ১৯৬৫ সালের সেই কিংবদন্তি ব্রডওয়ে স্টেজ প্লে-র কথা। রিচার্ড কাইলি (Richard Kiley) এবং জোন ডিনার (Joan Diener)-কে তাদের পূর্ণ যৌবনে, একদম জীবন্ত রূপে যদি আজ আবার পর্দায় দেখা যেত! একটি সম্পূর্ণ সিনেমাটিক দুনিয়ায় তাদের সেই হারিয়ে যাওয়া পারফরম্যান্সকে ফিরিয়ে আনা—এটি কি রোমাঞ্চকর নয়?
অনেকে এআই-কে শিল্পের জন্য হুমকি মনে করেন। কিন্তু এই প্রেক্ষাপটে দেখলে মনে হয়, এটি কোনো ‘চুরি’ নয়, বরং এটি হলো ‘সাংস্কৃতিক সংরক্ষণ’ (Cultural Preservation)। প্রযুক্তির ছোঁয়ায় হারিয়ে যাওয়া ইতিহাসকে নতুনের মোড়কে দর্শকদের সামনে তুলে ধরার এক জাদুকরী সুযোগ।
প্রয়োজন একটি ‘টয় স্টোরি’ মুহূর্ত
তবে প্রযুক্তির এই বিপ্লবকে মূলধারায় নিয়ে আসা সহজ নয়। এআই-নির্মিত চলচ্চিত্রকে সত্যিকার অর্থে গ্রহণযোগ্যতা পেতে হলে, কম্পিউটার অ্যানিমেশনের ইতিহাসের দিকে তাকাতে হবে। ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত কম্পিউটার গ্রাফিক্স নিয়ে মানুষের মনে অনেক সংশয় ছিল। কিন্তু যখন ‘টয় স্টোরি’ (Toy Story) মুক্তি পেল, তখন সবকিছু বদলে গেল।
‘টয় স্টোরি’ প্রমাণ করেছিল যে কম্পিউটার-জেনারেটেড সিনেমা কেবল প্রযুক্তির খেলা নয়, এটিও হতে পারে নিখাদ শিল্প। এর গল্প, আবেগ এবং উপস্থাপনা দর্শকদের হৃদয়ে এমনভাবে দাগ কেটেছিল যে, ইন্ডাস্ট্রি বাধ্য হয়েছিল একে সম্মান জানাতে। এটি অ্যানিমেশন জগতকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিল।
আগামীর অস্কার এবং নতুন দিগন্ত
এআই-এর মাধ্যমে তৈরি লং-ফর্ম কন্টেন্ট বা পূর্ণদৈর্ঘ্য সিনেমার জন্যও ঠিক এমন একটি মুহূর্ত প্রয়োজন। এমন একটি মাস্টারপিস সিনেমা দরকার, যা সমালোচক, ইউনিয়ন এবং সংশয়বাদীদের মেনে নিতে বাধ্য করবে যে—হ্যাঁ, এটিও একটি শিল্প।
যেদিন কোনো এআই-প্রযোজিত সিনেমা কেবল ‘ভিজ্যুয়াল এফেক্টস’-এর জন্য নয়, বরং ‘সেরা চলচ্চিত্র’ (Best Picture) হিসেবে অস্কার মঞ্চে পুরস্কার জিতে নেবে, সেদিনই এই প্যারাডাইম শিফট বা আমূল পরিবর্তন পূর্ণতা পাবে।
আমরা হয়তো সেই মাহেন্দ্রক্ষণের খুব কাছেই দাঁড়িয়ে আছি, যেখানে প্রযুক্তি এবং মানুষের সৃজনশীলতা মিলে তৈরি করবে নতুন কোনো ইতিহাস।
সিনেমার ভবিষ্যৎ ও এআই: আমরা কি পরবর্তী ‘টয় স্টোরি’ মুহূর্তের অপেক্ষায়?
আপনার মতামত কী? এআই কি পারবে সিনেমার জগতকে বদলে দিতে, নাকি এটি শুধুই প্রযুক্তির চমক? কমেন্টে আমাদের জানান!


