ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলা: সিভিয়ন ও সঞ্জয় ফের ৫ দিনের রিমান্ডে
তারিখ: ২১ ডিসেম্বর, ২০২৫ | বিষয়: অপরাধ ও বিচার
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় গ্রেফতারকৃত দুই আসামি, সিভিয়ন ডিউ ও সঞ্জয় চিসিমকে আবারও রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিয়েছেন আদালত। চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলার তদন্তের স্বার্থে রোববার (২১ ডিসেম্বর) ঢাকার আদালত এই আদেশ প্রদান করেন।
আদালতের আদেশ ও রিমান্ড মঞ্জুর
রোববার ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সেফাতুল্লাহর আদালতে আসামিদের হাজির করা হয়। শুনানি শেষে বিচারক সিভিয়ন ডিউ ও সঞ্জয় চিসিমের ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এর আগে, গত বৃহস্পতিবারও আদালত তাদের ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছিলেন। প্রথম দফার জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আরও তথ্যের প্রয়োজনে তদন্তকারী কর্মকর্তা পুনরায় রিমান্ডের আবেদন জানালে আদালত তা গ্রহণ করেন।
আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ও তদন্তের অগ্রগতি
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও ডিবি পুলিশের পরিদর্শক ফয়সাল আহমেদ রিমান্ড আবেদনে উল্লেখ করেন যে, গ্রেফতারকৃত এই দুই আসামির বিরুদ্ধে মামলার প্রধান অভিযুক্তকে পালাতে সহায়তা করার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেছে।
প্রধান আসামিকে পলায়নে সহায়তা: মামলার এজাহারনামীয় প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুল দাউদ (৩৭) ও তার এক সহযোগীকে অবৈধ পথে ভারতে পালিয়ে যেতে প্রত্যক্ষভাবে সহযোগিতা করেছেন সিভিয়ন ও সঞ্জয়।
প্রযুক্তিগত প্রমাণ: পুলিশ জানিয়েছে, তাদের এই সহযোগিতার বিষয়ে প্রযুক্তিগত সাক্ষ্য-প্রমাণ ও তথ্য পাওয়া গেছে।
রাজনৈতিক পরিচয়: গ্রেফতারকৃত আসামি সিভিয়ন ডিউ নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য জুয়েল আড়েং-এর ভাগিনা বলে জানা গেছে।
ঘটনার পেছনের কাহিনী
গত ১২ ডিসেম্বর, ২০২৪ রোজ বৃহস্পতিবার দুপুর আনুমানিক ২টা ২০ মিনিটে রাজধানীর পল্টন থানাধীন বক্স কালভার্ট রোডে এই নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটে।
শরিফ ওসমান হাদি একটি অটোরিকশায় চড়ে যাচ্ছিলেন।
হঠাৎ মোটরসাইকেলে আসা দুষ্কৃতকারীরা তাকে লক্ষ্য করে প্রকাশ্যে গুলি চালায়।
গুরুতর আহত অবস্থায় হাদিকে হাসপাতালে নেওয়া হলে পরবর্তীতে তার মৃত্যু হয়।
এই ঘটনার দুদিন পর, ১৪ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের বাদী হয়ে পল্টন থানায় হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা দায়ের করেন, যা পরবর্তীতে হত্যা মামলায় রূপান্তর হয়।
শরিফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ড রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। প্রধান আসামি রাহুল দাউদকে গ্রেফতার এবং এই হত্যাকাণ্ডের পেছনের মূল ষড়যন্ত্র উন্মোচনে পুলিশি তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের দ্বিতীয় দফায় রিমান্ডে নেওয়া মামলার মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


