দিনভর উত্তেজনা, প্রশাসন ভবনে তালা এবং শিক্ষার্থীদের আল্টিমেটামের মুখে অবশেষে পদত্যাগ করলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) আওয়ামী লীগপন্থী ছয়জন ডিন। রোববার (২১ ডিসেম্বর) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ইফতিখারুল আলম মাসুদ গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
জুলাই বিপ্লব পরবর্তী সময়ে ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন এবং শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে এই ঘটনা রাবি প্রশাসনের ইতিহাসে একটি উল্লেখযোগ্য দিন হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। আজকের ব্লগে আমরা জানব কেন এই পদত্যাগ, কারা পদত্যাগ করলেন এবং ক্যাম্পাসের সার্বিক পরিস্থিতি।
আন্দোলনের প্রেক্ষাপট: কেন এই ক্ষোভ?
গত ১৮ ডিসেম্বর এই ডিনদের মেয়াদ শেষ হলেও উপাচার্য তাদের মেয়াদ বৃদ্ধি করেন। এতে সাধারণ শিক্ষার্থী এবং রাকসু (রাকসু) প্রতিনিধিদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে জুলাই যোদ্ধা শরীফ ওসমান হাদির মৃত্যুর পর শিক্ষার্থীদের আন্দোলন আরও বেগবান হয়। শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, জুলাই বিপ্লবের সময় এসব শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন।
শরীফ ওসমান হাদির নির্মম মৃত্যু এবং তার বিচারের দাবিতে সারাদেশে যে আন্দোলন চলছে, তার প্রভাব পড়েছে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসেও। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে পড়ুন:
দিনভর যা ঘটলো ক্যাম্পাসে
রোববার দুপুর ১টার দিকে শিক্ষার্থীদের একটি দল এবং ছাত্রশিবির নেতারা প্রশাসন ভবনের বিভিন্ন দপ্তরে তালা ঝুলিয়ে দেন।
তালাবদ্ধ প্রশাসন: উপাচার্য, উপ-উপাচার্য, প্রক্টর এবং রেজিস্ট্রারের দপ্তরে তালা দেওয়া হয়।
বাগবিতণ্ডা: উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিনের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়।
আল্টিমেটাম: রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার এবং অন্যান্য ছাত্রনেতারা অবিলম্বে ডিনদের অপসারণের দাবি জানান।
বিকালে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনার পর পদত্যাগের আশ্বাস মিললে তালা খুলে দেওয়া হয়। সন্ধ্যায় জরুরি বৈঠকের পর ডিনরা লিখিতভাবে দায়িত্ব পালনে অপারগতার কথা জানান।
এই আন্দোলনের নৈতিক ভিত্তি এবং ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের প্রেক্ষাপট বুঝতে এই বিশ্লেষণটি পড়ুন:
পদত্যাগকারী ৬ ডিন কারা?
আন্দোলনের মুখে যে ছয়জন ডিন পদত্যাগ করেছেন, তারা হলেন: ১. অধ্যাপক আবু নাসের মো. ওয়াহিদ (আইন অনুষদ) ২. অধ্যাপক এএসএম কামরুজ্জামান (ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদ) ৩. অধ্যাপক এসএম এক্রাম উল্যাহ (সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ) ৪. অধ্যাপক নাসিমা আখতার (বিজ্ঞান অনুষদ) ৫. অধ্যাপক বিমল কুমার প্রামাণিক (প্রকৌশল অনুষদ) ৬. অধ্যাপক এএইচএম সেলিম রেজা (ভূবিজ্ঞান অনুষদ)
সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের সদ্য সাবেক ডিন অধ্যাপক এসএম এক্রাম উল্যাহ বলেন, "আমি এ পরিস্থিতিতে ডিন থাকতে চাচ্ছি না। উপাচার্যের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করেছি।"
ছাত্র রাজনীতির নতুন মোড়
এই আন্দোলনে রাকসু, ছাত্রশিবির এবং সাধারণ শিক্ষার্থীরা একাট্টা হয়ে দাবি আদায় করেছেন। রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার ফেসবুকে এক পোস্টে বলেন, "বিচার না হওয়া পর্যন্ত আওয়ামীপন্থীদের দপ্তর তালাবদ্ধ থাকুক।"
বাংলাদেশের ছাত্র রাজনীতি এবং আগামী সংসদ নির্বাচনে তরুণ বিপ্লবী নেতাদের ভূমিকা কী হতে পারে, তা নিয়ে বিস্তারিত জানতে পড়ুন:
রাজনৈতিক উত্তাপ ও অন্যান্য প্রসঙ্গ
বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের এই অস্থিরতার পাশাপাশি জাতীয় রাজনীতিতেও চলছে নানা সমীকরণ। বিশেষ করে ইনকিলাব মঞ্চের নেতাদের ওপর হামলা এবং মামলার বিষয়গুলো এখন টক অফ দ্য টাউন। পড়ুন:
এছাড়া আগামী নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলোর অবস্থান নিয়েও জল্পনা কল্পনা চলছে। যেমন বগুড়ার রাজনীতি নিয়ে খবর:
? স্বাস্থ্য ও লাইফস্টাইল কর্নার (Health & Lifestyle)
রাজনৈতিক উত্তাপের মাঝে নিজের স্বাস্থ্যের যত্ন নেওয়াও জরুরি। সুস্থ থাকতে ও দুশ্চিন্তামুক্ত থাকতে প্রাকৃতিক খাবারের ওপর ভরসা রাখুন।
ওজন কমাতে চান? মিষ্টিকুমড়ার বীজের জাদুকরী উপকারিতা সম্পর্কে জানুন:
ওজন কমাতে ও চুল বৃদ্ধিতে মিষ্টিকুমড়ার বীজের উপকারিতা ।দৈনন্দিন পুষ্টি: সাধারণ মসুর ডালের অসাধারণ সব গুনাগুণ জেনে নিন:
মসুর ডালের অবিশ্বাস্য স্বাস্থ্য উপকারিতা ।
উপসংহার
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এই ঘটনা প্রমাণ করে যে, সাধারণ শিক্ষার্থীদের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মুখে যেকোনো অন্যায্য সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা সম্ভব। ৬ ডিনের পদত্যাগ ক্যাম্পাসে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনবে বলে সাধারণ শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা।


