জামায়াতে ইসলামীসহ ৮-দলীয় জোটের সঙ্গে কোনো ধরনের রাজনৈতিক সমঝোতা বা নির্বাচনী জোটের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় কমিটির ৩০ জন প্রভাবশালী সদস্য। আজ শনিবার (২৭ ডিসেম্বর, ২০২৫) দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামকে একটি চিঠির মাধ্যমে এই আপত্তির কথা জানানো হয়েছে।
দলের যুগ্ম সদস্যসচিব মুশফিক উস সালেহীন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, জামায়াতের সঙ্গে জোট গঠন করলে দলের আদর্শিক ভিত্তি ও রাজনৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতা হুমকির মুখে পড়বে বলে নেতারা মনে করছেন।
আপত্তির মূল কারণসমূহ
চিঠিতে নেতারা জামায়াতে ইসলামী ও তাদের ছাত্রসংগঠন ছাত্রশিবিরের কর্মকাণ্ড নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের আপত্তির প্রধান ভিত্তিগুলো হলো:
- বিভাজনমূলক রাজনীতি: বিগত এক বছর ধরে জামায়াতের পক্ষ থেকে বিভাজনমূলক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও অন্যান্য দলের ভেতরে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ।
- চরিত্র হননের চেষ্টা: অনলাইন প্ল্যাটফর্মে এনসিপি ও এর ছাত্রসংগঠনের নারী সদস্যদের নিয়ে অপপ্রচার ও চরিত্র হননের চেষ্টার অভিযোগ।
- ঐতিহাসিক দায়বদ্ধতা: ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে জামায়াতের স্বাধীনতাবিরোধী ভূমিকা ও গণহত্যার সহযোগিতার বিষয়টি এনসিপির গণতান্ত্রিক মূলবোধের সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক।
- সামাজিক ফ্যাসিবাদ: ধর্মকে কেন্দ্র করে সামাজিক ফ্যাসিবাদের উত্থানের আশঙ্কা, যা দেশের ভবিষ্যতের জন্য 'অশনিসংকেত' বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
স্বতন্ত্র অবস্থানের অঙ্গীকার রক্ষা
চিঠিতে নেতারা মনে করিয়ে দেন যে, দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ইতিপূর্বে ৩০০ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। ইতোমধ্যে ১২৫ জন প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়েছে এবং প্রায় দেড় হাজার মনোনয়নপত্র বিক্রি হয়েছে। এই অবস্থায় জোট গঠন করাকে 'জাতির সঙ্গে প্রতারণা' হিসেবে দেখছেন স্বাক্ষরকারী নেতারা।
"নীতিগত অবস্থানের ভিত্তিতে কৌশল নির্ধারিত হওয়া উচিত, কৌশলগত কারণে নীতিগত অবস্থান বিসর্জন দেওয়া উচিত নয়।" — চিঠিতে এনসিপি নেতৃবৃন্দ
সমর্থন হারানোর আশঙ্কা
নেতারা সতর্ক করেছেন যে, জামায়াতের সঙ্গে জোটের খবর গণমাধ্যমে আসার পর থেকেই দলের একটি বড় অংশ এবং নতুন রাজনীতি প্রত্যাশা করা মধ্যপন্থী মানুষ সমর্থন সরিয়ে নিতে শুরু করেছেন। জোট হলে ভবিষ্যতে পার্টি তার মূল সমর্থক ভিত্তি হারাবে বলে তাঁরা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
চিঠিতে স্বাক্ষরকারী উল্লেখযোগ্য নেতৃবৃন্দ
এই প্রতিবাদী চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন:
- মুশফিক উস সালেহীন (মুখ্য সদস্যসচিব)
- নুসরাত তাবাসসুম ও অর্পিতা শ্যামা দেব (যুগ্ম আহ্বায়ক)
- আরমান হোসাইন (কেন্দ্রীয় সংগঠক)
- দ্যুতি অরণ্য চৌধুরী (সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব, জাতীয় যুবশক্তি)
- এবং আরও কেন্দ্রীয় ও বিভাগীয় পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।


