লগইন রেজিস্ট্রেশন
General

জামায়াতের সঙ্গে সমঝোতা করলে এনসিপিকে কঠিন মূল্য দিতে হবে: সামান্তা শারমিন

@admin

28 Dec, 2025 • 1 ভিউস

শেয়ার করুন:
Banner

এনসিপি ও জামায়াতের নির্বাচনী জোট নিয়ে জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিনের কড়া হুঁশিয়ারি। তিনি জানিয়েছেন, এই সমঝোতা এনসিপির জন্য বিপর্যয়কর হবে। জানুন বিস্তারিত।


জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে যেকোনো ধরনের নির্বাচনী জোট বা আসন সমঝোতার বিরুদ্ধে তীব্র আপত্তি জানিয়েছেন। আজ রোববার (২৮ ডিসেম্বর, ২০২৫) সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি সতর্ক করে বলেন, এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করলে এনসিপিকে ভবিষ্যতে ‘কঠিন মূল্য’ দিতে হবে।

​জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের স্পিরিট নিয়ে গঠিত তরুণদের এই দলটিতে গত কয়েকদিন ধরেই জামায়াত-জোট ইস্যুতে অস্থিরতা বিরাজ করছে। এর মধ্যেই দলের নীতিনির্ধারণী ফোরাম ‘রাজনৈতিক পর্ষদ’-এর সদস্য সামান্তা শারমিন তাঁর অনড় অবস্থান পরিষ্কার করলেন।

সামান্তা শারমিনের আপত্তির মূল কারণসমূহ

​ফেসবুক পোস্টে সামান্তা শারমিন বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট পয়েন্ট তুলে ধরেন:

​১. অবিশ্বস্ত মিত্র: তিনি সরাসরি উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী একটি নির্ভরযোগ্য মিত্র নয়। তাদের রাজনৈতিক দর্শন বা অবস্থানের সাথে এনসিপির কোনো সমঝোতা দলের জন্য আত্মঘাতী হবে।

২. আদর্শিক পার্থক্য: এনসিপি গঠিত হয়েছে বিচার, সংস্কার এবং ‘সেকেন্ড রিপাবলিক’ (দ্বিতীয় প্রজাতন্ত্র) প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন নিয়ে। জামায়াতের রাষ্ট্রকল্প এবং এনসিপির মূলনীতি সম্পূর্ণ আলাদা।

৩. সংস্কার ব্যাহত করার অভিযোগ: সামান্তা দাবি করেন, জামায়াত পিআর (সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব) পদ্ধতির দাবি তুলে সংস্কার প্রক্রিয়া ব্যাহত করার চেষ্টা করেছিল। ফলে যারা সংস্কারের পক্ষে নয়, তাদের সাথে জোট করা সম্ভব নয়।

৪. স্বাধীন রাজনৈতিক সত্তা: তিনি মনে করেন, বিএনপি বা জামায়াত—যেকোনোটির সাথেই জোট করা মানেই এনসিপির নিজস্ব সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক পলিসি থেকে বিচ্যুত হওয়া।

এনসিপির ভেতরে গভীর সংকট

​জামায়াতের সঙ্গে আসন সমঝোতার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই এনসিপিতে একের পর এক পদত্যাগের ঘটনা ঘটছে। ইতোমধ্যেই দল ছেড়েছেন:

  • ডা. তাসনিম জারা (সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব)
  • ডা. তাজনূভা জাবীন (যুগ্ম আহ্বায়ক)
  • মীর আরশাদুল হক (রাজনৈতিক পর্ষদ সদস্য)

​উল্লেখ্য, এনসিপি ঘোষিত ১২৫ জন প্রার্থীর তালিকায় এই তিনজনেরই নাম ছিল। এর আগে ৩০ জন কেন্দ্রীয় নেতা আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামকে দেওয়া এক চিঠিতে জোট গঠন নিয়ে তাদের গভীর উদ্বেগের কথা জানিয়েছিলেন।

প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অভিযোগ

​সামান্তা শারমিন তাঁর পোস্টে আরও মনে করিয়ে দেন যে, এর আগে দলের আহ্বায়ক ও নীতি-নির্ধারকরা বারবার ৩০০ আসনে একক প্রার্থী দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচন করার লক্ষে সারা দেশ থেকে প্রার্থী আহ্বান করা হয়েছিল। এখন অল্প কিছু আসনের জন্য কোনো বড় দলের সঙ্গে সমঝোতা করাকে আদর্শিক বিচ্যুতি হিসেবে দেখছেন তিনি।

​"জামায়াতের সাথে জোটের বিরোধিতা মানেই বিএনপির পক্ষে যাওয়া নয়। এনসিপির নিজস্ব যে মধ্যপন্থী ও সংস্কারমুখী অবস্থান ছিল, আমি সেই আদর্শের সৈনিক।" — সামান্তা শারমিন

মন্তব্যসমূহ (0)