লগইন রেজিস্ট্রেশন
General

মার্কিন প্রেসিডেন্টের চেয়ে ৪ গুণ বেশি বেতন! সজীব ওয়াজেদ জয়ের ১৮৫ কোটি টাকার অবিশ্বাস্য খতিয়ান। �

@admin

02 Jan, 2026 • 1 ভিউস

শেয়ার করুন:
Banner

একটি উন্নয়নশীল দেশের অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে যখন আমরা বিলাসী জীবনযাপন এবং উচ্চ বেতনের খবর শুনি, তখন সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। বিশেষ করে যখন সেই বেতন বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী দেশের রাষ্ট্রপ্রধানের চেয়েও কয়েকগুণ বেশি হয়, তখন তা কেবল বিস্ময়করই নয়, বরং উদ্বেগের বিষয়।

​আজকের ব্লগে আমরা বিশ্লেষণ করব সাবেক আইসিটি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের প্রাপ্ত বেতন এবং তৎকালীন সরকারের আর্থিক কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য।

​১. অবিশ্বাস্য বেতনের তুলনা: একটি অসম সমীকরণ

​একজন মার্কিন প্রেসিডেন্ট সারা বিশ্বের রাজনীতি ও অর্থনীতির মোড় ঘুরিয়ে দেন। অথচ তার বেতনের তুলনায় বাংলাদেশের একজন উপদেষ্টার বেতন ছিল আকাশচুম্বী।


ভাববার বিষয়: বাংলাদেশের মতো একটি মধ্যম আয়ের দেশে, যেখানে সাধারণ মানুষের গড় আয় অত্যন্ত সীমিত, সেখানে একজন ব্যক্তির জন্য রাষ্ট্রের এই বিপুল ব্যয় কি যৌক্তিক ছিল?


​২. ১১৬ মাসের বেতননামা: ১৮৫ কোটির হিসেব

​২০১৪ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৪ সালের জুলাই পর্যন্ত টানা ১১৬ মাস সজীব ওয়াজেদ জয় আইসিটি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এই দীর্ঘ সময়ে তিনি সরকারি কোষাগার থেকে যে পরিমাণ অর্থ নিয়েছেন তার হিসেবটা এমন:

  • মাসিক বেতন: ১,৬০,০০,০০০ (এক কোটি ষাট লক্ষ) টাকা।
  • মোট সময়কাল: ১১৬ মাস।
  • মোট গৃহীত অর্থ: প্রায় ১৮৫ কোটি ৬০ লক্ষ টাকা

​এই বিপুল পরিমাণ অর্থ কেবল একজনের বেতন হিসেবে ব্যয় করা হয়েছে, যা দিয়ে আইসিটি খাতে শত শত তরুণ উদ্যোক্তাকে সাহায্য করা সম্ভব ছিল।

​৩. ১১ লক্ষ কোটি টাকার পাচার: উন্নয়নের অন্তরালে অন্ধকার

​বেতনের চেয়েও বড় ক্ষত তৈরি হয়েছে দেশ থেকে অর্থ পাচারের মাধ্যমে। অভিযোগ অনুযায়ী, বিগত ১৬ বছরে তৎকালীন সরকারের প্রভাবশালী মহল প্রায় ১১ লক্ষ কোটি টাকা দেশ থেকে বিদেশে পাচার করেছে।

এই টাকার পরিমাণ কতটা বিশাল?

  1. ​এই অর্থ দিয়ে বাংলাদেশে ২ বছরের পূর্ণাঙ্গ জাতীয় বাজেট ঘোষণা করা যেত।
  2. ​এতে দেশের মুদ্রাস্ফীতি এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের সংকট চিরতরে মিটে যেতে পারত।
  3. ​হাজার হাজার স্কুল, কলেজ এবং অত্যাধুনিক হাসপাতাল নির্মাণ করা সম্ভব হতো।

​৪. সচেতন নাগরিকের বিবেকের কাছে প্রশ্ন

​দেশের উন্নয়ন মানে কেবল গুটিকয়েক মানুষের পকেট ভর্তি হওয়া নয়। প্রকৃত উন্নয়ন মানে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন এবং সম্পদের সুষম বণ্টন। যখন জনগণের কষ্টের ট্যাক্সের টাকা বিদেশের ব্যাংকে পাচার হয় বা মাত্রাতিরিক্ত বেতনে অপচয় হয়, তখন সেই শাসন আমল নিয়ে প্রশ্ন তোলা প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্ব।

আমাদের প্রশ্ন:

  • ​বিবেকের দায়বদ্ধতা থেকে আমরা কি আবারও এমন লুটতরাজ এবং বৈষম্যপূর্ণ শাসন ফিরে চাই?
  • ​যেখানে সাধারণ মানুষের শ্রমের টাকায় এক শ্রেণীর মানুষ বিলাসিতা করবে?

​উপসংহার

​একটি সুন্দর ও স্বচ্ছ বাংলাদেশ গড়তে হলে অতীতের এই আর্থিক খতিয়ানগুলো আমাদের মনে রাখা জরুরি। সুশাসন এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত দেশের সত্যিকারের মুক্তি সম্ভব নয়।

মন্তব্যসমূহ (0)