লগইন রেজিস্ট্রেশন
General

prince-harry-king-charles-reunion-2025

@admin

11 Dec, 2025 • 1 ভিউস

শেয়ার করুন:
Banner

রাজা চার্লস ও প্রিন্স হ্যারি: সম্পর্ক পুনর্গঠনের পথে আশার আলো?

পাঁচ বছরের দীর্ঘ টানাপোড়েন, অভিমান, ও গভীর বিভাজন যুক্তরাজ্যের রাজপরিবারকে দগদগে ক্ষত দিয়ে গেছে। বিশেষ করে রাজা তৃতীয় চার্লস এবং তাঁর ছোট ছেলে প্রিন্স হ্যারির মধ্যে যে বিশাল দূরত্ব তৈরি হয়েছে, তা ছিল বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। তবে, সম্প্রতি এই উত্তেজনার বরফ কিছুটা হলেও গলতে শুরু করেছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকেরা।

সেপ্টেম্বরের সফর ও নতুন করে বোঝাপড়ার ইঙ্গিত

আগামী ৮ সেপ্টেম্বর প্রিন্স হ্যারি যখন লন্ডনে ওয়েলচাইল্ড পুরস্কার অনুষ্ঠানে যোগ দিতে আসছেন, তখন সবার মনে একটাই প্রশ্ন—এবার কি বাবা-ছেলের দেখা হবে?

  • সুযোগ: রাজা চার্লস তখন যুক্তরাজ্যেই থাকবেন, মূলত স্কটল্যান্ডের বালমোরাল এস্টেটে। ফলে চাইলেই হ্যারি বাবার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পারেন।

  • ইতিহাস: এর আগে ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে বাবার অসুস্থতার খবর শুনে হ্যারি আকস্মিক সফরে এসেছিলেন। কিন্তু তখনও তাঁদের সাক্ষাৎ হয়েছিল মাত্র আধা ঘণ্টার মতো।

আস্থার সংকট কাটানোর চেষ্টা

সম্প্রতি একাধিক ঘটনা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, উভয় পক্ষই পরিস্থিতি বদলাতে আগ্রহী।

  • হ্যারি ও মেগানের নতুন জনসংযোগ টিমের সঙ্গে রাজা চার্লসের যোগাযোগসচিবের একটি গোপন বৈঠক হওয়ার খবর সামনে এসেছে। কয়েক বছর আগেও যা ছিল অকল্পনীয়, এখন তা 'বোঝাপড়ার' এক গুরুত্বপূর্ণ সঙ্কেত।

তবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো আস্থা অর্জন। হ্যারির স্মৃতিকথা স্পেয়ার প্রকাশের পর পরিবারের ব্যক্তিগত অনেক বিষয় প্রকাশ্যে আসে, যা বাবা চার্লস ও ভাই উইলিয়ামের সঙ্গে সম্পর্ককে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছিল।

পুনর্মিলনের আকুতি

নিজের ইচ্ছার কথা গোপন করেননি হ্যারি। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন:

“আমি পরিবারের সঙ্গে পুনর্মিলন চাই। জানি না বাবার কত দিন বাকি আছে...কিন্তু সব মিটমাট হলে ভালো লাগবে।”

পর্যবেক্ষকেরা মনে করছেন, এই মন্তব্যের মধ্যে পুনর্মিলনের স্পষ্ট ইঙ্গিত রয়েছে।

এখনও বড় বাধা: প্রিন্স উইলিয়াম

সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ার পথে সবচেয়ে বড় বাধা হলেন বড় ভাই প্রিন্স উইলিয়াম। তাঁদের দূরত্ব এখনও গভীর, এবং কেউই কারও সঙ্গে কথা বলছেন না। এই দুই ভাই পরিবারকে কেন্দ্র করে প্রবল সুরক্ষামূলক অবস্থানে থাকায় তাঁদের সম্পর্ক স্বাভাবিক হতে আরও অনেক সময় লাগতে পারে।

আশার আলো: মানবিক কাজ

হ্যারি তাঁর মানবিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে যুক্তরাজ্যের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ককে এখনও জীবন্ত রেখেছেন। নটিংহ্যামের একটি দাতব্য সংস্থায় বড় অঙ্কের অনুদান বা দরিদ্র পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর মতো কাজগুলো প্রমাণ করে যে, দূরে থেকেও নিজের দেশ ও জনগণের প্রতি দায়িত্ববোধ তিনি ভোলেননি।

সবকিছু মিলিয়ে, আগামী সেপ্টেম্বরে হ্যারির সফর বাবা-ছেলের দূরত্ব কমানোর এক বিশেষ সুযোগ হতে পারে। রাজপরিবারের দীর্ঘ বিভাজন মিটিয়ে নতুন অধ্যায় শুরু করতে এই সফর কতটা কার্যকর হয়, তা দেখার জন্যই এখন সবার অপেক্ষা।


আপনার কী মনে হয়? এই সফরে কি রাজা চার্লস ও প্রিন্স হ্যারির দূরত্ব কমবে? মন্তব্যে জানান!

মন্তব্যসমূহ (0)