গত কয়েক সপ্তাহ ধরে দেশে এক নীরব ঘাতকের মতো জেঁকে বসেছে হাম। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে ৯ এপ্রিল পর্যন্ত মাত্র ২৬ দিনে হাম এবং এর উপসর্গ নিয়ে সারা দেশে ১৬৬ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। আক্রান্তের সংখ্যাও লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে, যা আমাদের জনস্বাস্থ্যের জন্য এক চরম সতর্কবার্তা।
একনজরে বর্তমান পরিস্থিতি (১৫ মার্চ – ৯ এপ্রিল)
পরিসংখ্যান বলছে পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে:
- মোট মৃত্যু: ১৬৬ জন (নিশ্চিত হামে ২৩ জন, উপসর্গ নিয়ে ১৪৩ জন)।
- নিশ্চিত আক্রান্ত: ২,২৪১ জন।
- সন্দেহজনক আক্রান্ত: ১২,৩২০ জন।
- সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টা: মৃত্যু হয়েছে আরও ৭ শিশুর।
সবচেয়ে ঝুঁকিতে কোন এলাকা?
তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, আক্রান্ত ও মৃত্যুর হারের দিক থেকে বর্তমানে ঢাকা বিভাগ সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে। এর ঠিক পরেই রয়েছে রাজশাহী বিভাগ। গত ২৪ ঘণ্টায় শুধু ঢাকা বিভাগেই নতুন করে ১৫০ জন শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে এবং ৫০৪ জন সন্দেহজনক লক্ষণ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।
হাম আসলে কতটা বিপজ্জনক?
অনেকেই হামকে সাধারণ জ্বর বা চর্মরোগ ভেবে ভুল করেন। কিন্তু সঠিক সময়ে চিকিৎসা না পেলে এটি মারাত্মক জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে, যেমন:
- তীব্র নিউমোনিয়া (যা মৃত্যুর প্রধান কারণ)।
- মস্তিষ্কের প্রদাহ বা এনসেফালাইটিস।
- মারাত্মক ডায়রিয়া এবং পানিশূন্যতা।
- দৃষ্টিশক্তি হারানো বা অন্ধত্ব।
আপনার শিশুর সুরক্ষায় যা করবেন
এই ক্রান্তিলগ্নে আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন হওয়া জরুরি। আপনার শিশুর জন্য নিচের পদক্ষেপগুলো নিশ্চিত করুন:
- টিকাদান নিশ্চিত করুন: হাম প্রতিরোধের একমাত্র কার্যকর উপায় হলো এমআর (Measles-Rubella) টিকা। আপনার শিশুর নিয়মিত টিকাদান সম্পন্ন হয়েছে কি না যাচাই করুন। যদি বাদ পড়ে থাকে, তবে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করুন।
- লক্ষণ দেখা দিলেই চিকিৎসকের পরামর্শ: শরীরে দানা ওঠা, তীব্র জ্বর, সর্দি-কাশি বা চোখ লাল হওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে হাসপাতালে নিন।
- আলাদা রাখা: হাম অত্যন্ত ছোঁয়াচে। আক্রান্ত শিশুকে সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত অন্য শিশুদের থেকে আলাদা রাখুন এবং পর্যাপ্ত পুষ্টিকর খাবার ও তরল পান করান।
- ভিটামিন-এ ক্যাপসুল: হামের জটিলতা কমাতে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ভিটামিন-এ ক্যাপসুল খাওয়ানো অত্যন্ত জরুরি।
শেষ কথা
শিশুরাই আমাদের ভবিষ্যৎ। দেশের এই উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সরকার ও স্বাস্থ্য বিভাগ কাজ করে যাচ্ছে, কিন্তু ব্যক্তিগত সচেতনতা ছাড়া এই মহামারি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন। আপনার অবহেলা যেন একটি শিশুর প্রাণ কেড়ে না নেয়।